অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করার কৌশল

আমাদের জীবনে সবাইকেই কোন না কোন ছোট বড় অনুষ্ঠানের মঞ্চে, বা ঘরোয়া  অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে  হয়। এযাবৎ আপনার বক্তৃতা তেমন কোন পর্যায়েই পড়ে নি ? কেউ শুনতে চায় না? তার অনেক কারন থাকতে পারে।

আপনি এই লেখাটাও পড়ে দেখতে পারেন, কিভাবে সুন্দর করে কথা বলতে হয়

প্রথমত আমাদের মধ্যেই অনেকে আছেন কথা অনেক বলতে পারেন। কিন্তু অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় হাঁটু সমেত কেঁপে যায়। অথচ দেখুন অনেকেই আছেন এত সুন্দর করে বীর দর্পে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন মঞ্চ কাঁপিয়ে। আসুন আজ আলাপ করে দেখি কিভাবে আপনিও কোন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে পারেন। মঞ্চ কাঁপানো আমাদের টার্গেট নয়। আজ আমাদের টার্গেট হচ্ছে কিভাবে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করলে শ্রোতা বা দর্শক শুনতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন?

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করার আগে কয়েকটি বিষয়ে নজর দিন।

মুখের কয়েকটি ব্যায়াম করে নিতে পারেন। যেমন জিহবা কে উপরের মাড়ির সামনের দাঁতের সাথে স্পর্শ করিয়ে বলুন- লা লা লা লা, এভাবে অন্তত বিশ বার।

দুই ঠোঁটের মধ্যে একসাথে একটা ভাইব্রেশন তৈরী করুন।  বিস্তারিত দেখার জন্য লেখার নিচে একটি ভিডিও দেয়া হলো।

এছাড়াও আপনি দুই ঠোঁটের সমান স্পর্শ হয় এমন উচ্ছারন যেমন ব ব ভ ভ বা বা , ভা ভা। উচ্ছারন করতে পারেন। এসব শব্দ আপনাকে কিছুটা হলেও উচ্ছস্বরে করা উচিৎ। এতে আপনার মুখের জড়তা চলে যাবে। আপনি কথা বলার সময় তেমন কোন বাধা হবে না।

 

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার প্রথম শর্ত- অডিয়েন্সের মনোযোগ আকর্ষন করুন,

অডিয়েন্স এর দিকে তাকানঃ আপনি বক্তৃতা করনে কিংবা করার অনুশীলন করেন তখনি দর্শক বা অডিয়েন্স এর কথা ভাবুন। তাদের দিকে তাকান। তারা সবাই আপনার দিকে তাকাচ্ছে না এটা সত্যি। যে আপনার দিকে তাকাচ্ছে আপনি তার বা তাদের দিকে তাকান। অডিয়েন্স আরো বেশি আগ্রহী হয়ে আপনাকে শুনবে।  অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে এসেছেন মানেই হচ্ছে অডিয়েন্স কে আনন্দ বা অন্য যে কোন দরকারী অনুভূতি দিতেই এসেছেন। তাদের পর্যবেক্ষন না করলে আপনার কাজ সার্থক হবে না।

শব্দ বাক্য এবং প্রকাশের দিকে নজর দিনঃ সব কথা সমান স্বরে বলতে হয় না। যেমন চিৎকার আস্তে দিলে হবে না। সেটা আর্তনাদ হলে তার শব্দ টা ভিন্ন হবে। একেক কথা একেক ধরনের শব্দে বলতে হয়। কোন টা মধুর স্বরে কোনটা তীব্রতা কিংবা ঝাঁজালো হতে পারে। যেমন আমরা মানুষকে সাহায্য করতে চাই, কথাটা খুব নিম্ন স্বরে যেমন বলা যায় তেমনি উচ্ছস্বরে দ্রুতবেগেও বলা যায়। ঝাঁজালো স্বরেও বলা যায়। তিনটি ভিন্ন মাত্রায় এর অর্থ বা ভাব ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। শ্রোতা তার ভিন্ন ভিন্ন ভাব কিংবা গুরুত্ব খুঁজে পায়। তাই এদিকে নজর দিতে হবে।

মাঝে মধ্যে নীরবতার অনুশীলন করুনঃ কথা বলার এক পর্যায়ে কিছুক্ষন নীরন হয়ে যেতে পারেন। এতে অডিয়েন্স যারা এতক্ষন আপনাকে দেখছে না তারাও মাথা তুলে দেখবে। মনোযোগ ফিরে আসবে। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন আর না ই দেন, আপনি যদি ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ডের একটি সুন্দর নীরবতা অডিয়েন্স কে উপহার দিতে পারেন। সেটা অনেক বেশি স্মরনীয় হতে পারে। তবে নীরবতা অনুশীলন করতে হবে।

কিছু কমন বিষয় চিরতরে পরিহার করুনঃ অবশ্যই কিছু বিষয়ে কথা বলা পরিহার করুতে হবে। মানুষ সাধারনত কিছু বিষয়ে শুনতে চায় না। যেমন – ১) গল্প করা, বেশি গল্প কেউই শুনতে চায় না। এটা টাইম অপচয়। ২) নেগেটিভ কথা বলা, পজিটিভ কথা সবাই শুনতে চায়। ৩) এক্সকিউজ বা অযুহাত, কেউ কখনোই অযুহাত শুনতে প্রস্তুত নয়। ৪) কমপ্লেইনিং বা অভিযোগ, এই বিষয়ে কেউই শুনতে চায় না। ৫) মিথইয়া বলা, এটা অনুচিত। মানুষ শুনতে চাইলেও এর অসুবিধা অনেক। ৬)হেয় প্রতিপন্ন করা, এ ধরনের ক্ষেত্রে আপনার কথা কেউই শুনতে চাইবে না।

আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুনঃ আপনি বলবেন বা বলছেন তা সবাই শুনবে কারন আপনার উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে কিছু না কিছু পরিবর্তন করা। আপনি পরিবর্তন চাচ্ছেন। সেই বিষয়েই কথা বলছেন যার গভীরে আপনি যেতে পারেন। গভীরে যেতে না পারলেও অসুবিধা নেই, বক্তব্যের শেষে আপনি যত টুকু লিমিট জানেন তার সীমা নির্ধারন করুন। মানুষ সততা এবং একনিষ্ঠতার পৃষ্ঠপোষক।

অনুশীলনঃ আপনার অনুশীলনই আপনাকে দিতে পারে সর্বশ্রেষ্ঠ সাউন্ড বা কথা প্রয়োগের সুযোগ। একদিনে কিছুই হয় না। নিয়মিত প্র্যাকটিস অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার জন্য আপনাকে যোগ্য আর বলিষ্ঠ করে তুলতে পারে। অডিয়েন্স না পেলে, আয়নার সামনেও বক্তৃতা করতে পারেন। মানুষ নিজেকে নিজে বক্তা হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারলে অন্যরাও মূল্যায়ন করবে বলে আশা করা যায়।

 

ভিডিওটি দেখুন, আমার খুব প্রিয় এটি- জুলিয়ান খুব ভাল মানের বক্তা। তার ব্যক্তিত্ব অনেক সুন্দর আর অনুসরন করার মত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ভেরিফাই করুন--- *