করোনাভাইরাস আমাদের দেশ সহ অনেক দেশকেই করে রেখেছে প্রায় অচল। এই মূহুর্তে জীবন বাঁচাতে সবাই অবস্থান করছেন ঘরের ভিতর। করোনাকালের এই পরিস্থিতি আপনি যখন ঘরের ভিতরেই থাকছেন, খেয়াল করে দেখেছেন কি যে আপনার দাম্পত্য জীবনের অবস্থা কেমন? সুখের নাকি বিতৃষ্ণার তা যদি ধরতে পারেন তবেই আপনি সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিভাবে দাম্পত্য জীবন সুখের করা যায়, এর কিছু উপায় অবশ্যই আছে। আসুন আজ জেনে নিই – দাম্পত্য জীবন সুখী করার উপায়। অনেকেই আবার না বুঝেই দাম্পত্য কোলাহলে জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে- পুরো লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

একে অপরকে বুঝতে চেষ্টা করুন, সুখী দাম্পত্য জীবন শুরু করুন

যেকোন পরিস্থিতিতেই আপনি আপনার জীবন নিয়ে যখন যা কিছু পাচ্ছেন সব কিছুতেই মানিয়ে যাচ্ছেন। এই যেমন করোনাভাইরাস এ ঘরে থাকা, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আমরা সবাই ঘরের ভেতর থাকছি। এটা সম্ভব হচ্ছে কারন আমরা সবাই আমাদের জীবনকে খুব ভালবাসি। জীবন শুরু এবং মরণ এর মধ্যের সময়টাতে আমরা অনেক কিছুই করি। এত সব কাজের সব সময় ব্যাখ্যা থাকে না। বাবা মা, আত্মীয়স্বজন জিজ্ঞেস করলে ক’টা সঠিক উত্তর আমরা দিতে পারি? অনেক কাজেরই কোন বিনিময় আমরা চাই না। যদি বলেন সেটা কেমন? তাহলে দেখুন, পাবজি খেলায় আমরা আসলে কী বিনিময় চাই? শুধু সামান্য হৈহুল্লোড় ছাড়া প্রাপ্তিই বা কি এখানে? তবু আমরা এসবে ডুবে যাই। মেতে থাকি।

কিভাবে ইনফো এ লিখুন লেখক হয়ে সবাইকে কিছু তথ্য জানান

লেখালেখি করে আপনি জিততে পারেন আকর্ষনীয় পুরষ্কার! বিস্তারিত দেখুন

দাম্পত্য টিপস

তাহলে দাম্পত্য জীবনে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে নয় কেন? সঙ্গীর জীবন নিয়ে কি একই ধরনের ভাবনা ভাবছেন তো যা আপনি নিজের জীবন নিয়ে ভাবেন? নিজে যেমন অকারনে অপ্রয়োজনে কাজের মধ্যে নানান কিছুকে জড়িয়ে ফেলেন তেমনি আপনার সঙ্গীরও তা হতে পারে। তারটা অন্য দিক থেকে হতে পারে। যেমন অনেক ছেলে ঘরেই থাকে না শুধু বন্ধুর সাথে ঘোরে। তার মত অনেক মেয়ে দেখা যায় সারাদিন ফেইসবুক নিয়ে পড়ে থাকে। এই দুই কাজই সবার চোখে খারাপ হয়ত, কিন্তু তারা করছে। তাদের সেসময়ে ভাল লাগছে। এর জন্য কলহ করে অশান্তি না করে বোঝার চেষ্টা করা সবচে বেশি জরুরী।

একজন অন্যজনকে বুঝতে শিখুন, ধৈর্য্য নিয়ে তার সাথে সময় কাটাতে হচ্ছে, তাই করুন। জীবনের সাথে যেমন মানিয়ে চলছেন তেমনি সঙ্গীর সাথেও তাই করলে অসুবিধা কোথায়? তার অন্যায় আবদার কতটা মানা যায় তাও দেখুন। আমি বলছি না তার মারাত্মক সব অন্যায় আপনাকে মানতে হবে। তার অপরাধ আপনি সহ্য করবেন সেরকমটি নয়। শুধু স্বাভাবিকের মধ্যে যেসব মানা যায় সেগুলো সহ্য করে দেখুন। আরো জানুন, সঙ্গী মানুষটি কেমন? তার প্রতি নজর দিন। একটি সুখী দাম্পত্য জীবন শুরু করুন।

নতুন বিবাহিত জীবন? পুরনো দাম্পত্য? এসব নিয়ে না ভেবে একে অন্যকে রেসপেক্ট করুন

কেবল নতুন বিবাহিত জীবন শুরু করেছেন, এখনো সেভাবে শুরু করা হয় নি। কিংবা অনেক দিন হয়ে গেছে দাম্পত্যের এখনো সামান্য সুখের মুখ দেখি নি। এখন এতদিন পরে কীভাবে আর শুরু করবো? এসব ঝেড়ে ফেলে দিন। সুখী দাম্পত্য জীবনের শুরু বলে কিছু নেই। যেকোন জায়গা থেকেই এর শুরু হতে পারে। দরকার হচ্ছে শ্রদ্ধা, সম্মান, ভালবাসার হাত প্রসারিত করা। ভালবাসা মরে না, এমন কথা সবাই বলে। আবার এও বলে প্রেমের মরা জলে ডোবে না। এসব কথার বাইরেও যে কথা তা হচ্ছে, কোন ভালবাসাই বিফলে যায় না। মন থেকে ভালবাসুন। দেখবেন সেই ভালবাসা এক সময় দ্বিগুন তিনগুন হয়ে ফেরত আসছে আপনার কাছে।

মৃত্যুর আগে মানুষের কোন পর্যালোচনা করার সুযোগ থাকে কি না জানি না। যদি থাকতো তখন সে হয়ত ভাবত, জীবনে কতটা ভালবাসা পেলাম। এর জন্য সারা জীবন সে অতিবাহিত করেছিল। ভয়ংকর সন্ত্রাসীও এক কোমল মনে ভালবাসা লালন করে। পেতে চায় সুখী দাম্পত্যের সুখ।

তাই জীবনকে সুখের করে নিতে বাড়িয়ে দিন সঙ্গীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা। রেসপেক্ট সব মানুষকেই করা উচিৎ। নির্দিষ্ট সীমানায় রেখে সকল মানুষ আপনার রেসপেক্ট আশা করেন। দাম্পত্যে সঙ্গীর রেসপেক্ট পাবার সে অধিকার অনেক বেশি।

দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে গেলে সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস রাখুন

বিশ্বাসে মেলায় বস্তু তর্কে বহুদূর! একথা সত্যি। দাম্পত্য শুরু হয় বিশ্বাস দিয়ে। একটি পারস্পরিক আস্থা তৈরী করা হয় দাম্পত্য জীবনকে আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য। সেই বিশ্বাস শুধু নামে মাত্র না করে আন্তরিকতার সাথে করুন। নিজে থেকে সন্দেহ হলেই তা নিয়ে হৈহুল্লোড় শুরু করে দিবেন না। বাস্তবিকই যদি কোন বিশ্বাস ভঙ্গের মত ঘটনা ঘটে তা জানার চেষ্টা করতে পারেন। তবু প্রমান না পেলে কোন শোনানো গল্পের জন্য বিশ্বাস হারাবেন না।

দাম্পত্য জীবন

আমাদের দেশের যৌথ পরিবারে এমন ঘটনা বেশি ঘটে। আত্মীয়ের নানান কান কথা শুনে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। এসব কথায় কখনো সঙ্গীর প্রতি বিশ্বাস হারাবেন না। সমাজের নানান প্রান্তে নানান ধরনের মানুষ থাকে। শয়তান নিজেও মানুষের সাজে চারপাশে ঘোরে। তাই শয়তানকে বিশ্বাস করা বোকামী। কোন সন্দেহ কিংবা অভিযোগ থাকলে একান্তে আলাপ করে জেনে নিন। আপনি সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিন, এসব পরিস্থিতিতেও আপনি তাকে বিশ্বাস করেন।

সম্পর্ক মজবুত করতে একে অন্যকে আকৃষ্ট করার প্রতিযোগীতা করতে পারেন

দাম্পত্য জীবন শুধু বাইরের দিক থেকে দেখলেই হয় না, এর আভ্যন্তরীন দিকটাও দেখা দরকার। শারীরিক প্রয়োজন এবং জৈবিক দিকটিকে প্রাধান্য দিন। নতুন বিবাহিত দাম্পত্য জীবনে এমন দিকটি খুব কম দেখা হলেও পুরনো দাম্পত্য জীবনে এই সমস্যায় বেশি জর্জরিত হতে দেখা যায়। বিশেষ করে দুই বছরের পরের দাম্পত্য জীবন কেমন যেন একটা ফিকে আর অস্বভাবিক পরিস্থিতির স্বীকার হয়। এখন পর্যন্ত যত ডিভোর্স তার বেশিরভাগই হয়েছে দাম্পত্য জীবনের কয়েক বছর পরে।

দাম্পত্য জীবন

সঙ্গীর প্রতি নিজে আকৃষ্ট না হলে তাকে পরামর্শ দিতে পারেন। নিজেই নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলতে পারেন। সঙ্গীর পছন্দ অপছন্দ জেনে নিলে খুবই ভাল হয়। যেমন কোন কোন পরুষ সঙ্গীর শাড়ি পরা নারী সঙ্গী পছন্দ, আবার অনেক নারী সঙ্গীর পুরুষ সঙ্গীর ক্লীন শেভড মুখ দেখতে ভাল লাগে। এগুলো খুব ছোটখাট হলেও এড়িয়ে যাবার মত নয়। গুরুত্ব দিন তার পছন্দ অপছন্দ সব কিছুর প্রতিই। রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না এমন মানুষ তো দেখা যায় না। তাই নিজের রোমান্টিকতা তুলে ধরুন সঙ্গীর প্রতি।

অভাব অনটন মীমাংশা করে নিন, অর্থনৈতিক বোঝাপড়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ন

শিক্ষিত সমাজে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বোঝার ক্ষমতা কিছুটা কম পরিলক্ষিত হয়। এর চেয়ে কম শিক্ষিত দাম্পত্যে অভাব অনটনের মীমাংশা খুব দ্রুত করা যায়। সেখানে একে অন্যের সামর্থ বুঝতে দেরী করে না। কারন অনেকের আবার নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। চাহিদা কিছুটা কম থাকে কম শিক্ষিত মানুষদের। বিশেষ করে দরিদ্রদের। মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পরিবারের চাহিদা থাকে অপূরনীয়। একা রোজগার করলেতো খুবই বাজে অবস্থা। আজ এই লাগবে তো কাল সেই লাগবে। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে কেনা, ইএমআই(EMI) এসবের ভেতরে পড়ে নানান গল্প তৈরী হবেই। এসব দম্পতির আলোচনার টপিক তৈরী হয় দ্রুত। আজ নতুন একটা জিনিস লাগবে কাল নতুন কোন ফান্ড লাগবে এসব। নতুন জায়গায় ঘুরতে যেতে হবে। আরো কত কী?

দাম্পত্য জীবন সুখের হোক

দাম্পত্যের ভেতর থেকে দেখলে এসব অভাব অনটনের শেষ নেই, যুক্তি তর্ক এবং শেষে এসব নিয়েও দাম্পত্য কলহ বেড়েই চলেছে। সমাধান টানতে কেউই আর এগিয়ে আসে না। এর থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে, মীমাংশা করে নিন। বাজেট তৈরী করুন। আয় বুঝে ব্যয় করা হচ্ছে সঠিক সিদ্ধান্ত। ব্যয় কখনোই আয়ের আগে নয়। শুধুমাত্র জরুরী যেসব কিনতে হয়, সেসব নিতে পারেন।

অর্থনীতি সব দাম্পত্যের জন্য একটা হুমকি হবেই। এর সঠিক হিসেবনিকেশ দাম্পত্য জীবনকে সুখের করতে পারে। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা থেকে বিরত থাকুন।

আবেগ এবং ইগো দুইয়ের নিয়ন্ত্রন করুন, দাম্পত্য জীবন সুখের হবে

জানপাখি তোমারে না দেখলে মরে যাই, একথা নিশ্চয়ই নারায়নগঞ্জের সেই(ফেইসবুক লাইভে এসে খুন) কুখ্যাত খুনীও প্রেম করার সময় বলেছিলেন। আবেগ নিয়ে প্রেম ভালবাসা করা বেঠিক কিছু নয়। কিন্তু অতিরিক্ত আবেগ থাকাটা বিপদজনক।

রাগ এবং ইগো প্রত্যাহার করা জরুরী। রেগে গেলে মানুষের নিজের কন্ট্রোল হারাতে দেখা যায়। আর ইগো কখনোই নিজের হেরে যাওয়া সহ্য করে না। তাই রাগ এবং ইগো এই দুইয়ের সাথে নিজেকে সঠিক অবস্থানে নিয়ে আসুন। রাগ কখনো কখনো দেখানো যেতে পারে। সেটা যেন ফেইক রাগ হয়। রাগ যেন বাস্তবের চেয়ে ভয়ানক না হয়।

ক্ষোভ থাকলে তা প্রকাশ করুন, সময় নিয়ে তার জন্য আলোচনা করুন। কখনো সঙ্গীর সাথে রাগ ক্ষোভ লুকিয়ে রাখা ঠিক নয়। লুকানো ক্ষোভ দিন দিন আরো বেশি জমাট বেঁধে বড় হতে থাকে।

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার উপায়

সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য নিজের এবং নিজেদের মধ্যে সামঞ্জস্যতা তৈরী করুন। সন্তানদের ভালবাসুন, সঙ্গীর প্রতি খেয়াল রাখুন। কলহ হতে গেলে থামিয়ে দিন। একজন যদি থেমে যায় তবে দুইজনের মধ্যে আর তেমন কিছু বাড়ে না। সম্পর্ক খারাপ হবার আগেই কাউন্সেলিং করতে পারেন। পারস্পরিক সম্পর্ক মধুময় করতে নিতে পারেন অভিজ্ঞদের সহায়তা।

আমাকে ফেইসবুকে টেক্সট করতে পারেন-

জনপ্রিয় হচ্ছে

নিবন্ধন

লগিন করুন

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আমাদের সম্পর্কে

কিভাবে ইনফো - Kivabe Info

কিভাবে ডট ইনফো একটি বাংলা তথ্য শেয়ারিং সাইট। এএখানে আপনি নিজে যেমন জানতে পারবেন তেমনি চাইলে সবাইকে জানাতেও পারবেন।

সোশ্যাল মিডিয়া

যোগাযোগের জন্য

© কিভাবে ইনফো - Kivabe Info 2013-2021

Developed by: Behostweb.com

আপনি আমাদের সাথে একমত হয়ে এই ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন, এর মানে আপনি আমাদের কুঁকি পলিসি গ্রহন করেছেন। পড়ুন প্রাইভেসি পলিসি . সব কুঁকি মেনে নিন