ভালবাসা দিবস

ভালবাসা দিবস এর ঘটনা অনেক পুরনো। প্রায় আঠারো শ বছরের পুরনো কিছু ইতিহাস। উইকিপিডিয়া থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন’স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচার-অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাঁকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন’স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন’ দিবস ঘোষণা করেন। খৃষ্টানজগতে পাদ্রী-সাধু সন্তানদের স্মরণ ও কর্মের জন্য এ ধরনের অনেক দিবস রয়েছে। যেমন: ২৩ এপ্রিল – সেন্ট জজ ডে, ১১ নভেম্বর – সেন্ট মার্টিন ডে, ২৪ আগস্ট – সেন্ট বার্থোলোমিজম ডে, ১ নভেম্বর – আল সেইন্টম ডে, ৩০ নভেম্বর – সেন্ট এন্ড্রু ডে, ১৭ মার্চ – সেন্ট প‌যাট্রিক ডে।

পরে অবশ্য অনেক কারনে এই ভালবাসা দিবস কে বিভিন্ন দেশ এবং সমাজ নিষিদ্ধ করেছেন। যেমন ১৭৭৬ সালে ফ্রান্স সরকার ভ্যালেনটাইন’স ডে নিষিদ্ধ করেছেন। ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, জার্মানী সহ বেশ কিছু দেশও সেরকম একই ভাবে ১৪ই ফেব্রুয়ারী কে প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমা দেশ সহ প্রায় বেশিরভাগ দেশেই বিশেষ করে ইউরোপে ১৪ই ফেব্রুয়ারী পালন করা হয়। এবং শুধুমাত্র যুক্ত্রাজ্যেই ১০০কোটি পাউন্ড খরচ করে মোট জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ বিভিন্ন আয়োজন করেন। আনুমানিক ২.৫ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান প্রদান করেন।

বাংলাদেশে এই দিবসটি পালন করা হয় বিশ্ব ভালবাসা দিবস হিসেবে।

আয়োজন থাকে নানান ধরনের কার্যকলাপ আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে। তবে সব কিছুই করা হয় ব্যক্তি পর্যায়ে।সরকারী পর্যায়ে এর তেমন কোন স্বীকৃতি পাওয়া যায় না। অফিস আদালত সব কিছুই খোলা থাকে। কোন ছুটির দিন প্রযোজ্য নয়। তরুন তরুনীরা নিজেদের মত করে দিনটিকে উপভোগ করেন। প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য দিনটি খুবই উপভোগ্য। মুলত আমোদ প্রমোদ আর ভোগ বিলাসের মধ্যেই এই দিনটি পালন করেন তারা।

কাছে কোথাও হলেও ভালবাসা দিবস নিয়ে সবাই থাকে ভ্রমন ব্যস্ত। কেউ রিক্সায় আবার কেউ নৌকায়, অরোমানীয় ইতিহাসনেকেই লং ড্রাইভ মানে দূর যাত্রায় বের হয় যান। ভালবাসা দিবস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বেড়ানো নিয়ে অনেকেই আয়োজন করে রাখেন অনেক দিন আগে থেকেই। ইদানিং সবচে’ বেশি আকর্ষনীয় হচ্ছে ভালবাসা দিবস ঘিরে বিদেশ ভ্রমন। অনেক আয়োজন থাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো থেকেও।

ভালবাসা দিবস ঘিরে কিছু আবোলতাবোল চালচলন যে চোখে পড়ে না তা কিন্তু নয়।

ভালবাসা দিবস প্রত্যাখ্যানের ইতিহাস যেমন আছে তেমনি এর কারনও ছিলো। অবাধে চলাফেরা আর মেলামেশা করা ছিল ভালবাসা দিবস প্রত্যাখ্যানের অন্যতম কারন। এখনো বাংলাদেশের মত দেশেও এত বেশি ভোগ বিলাস নিয়ে মত্ত থাকেন। তাছাড়াও দেখা যায় ধান্ধাবাজেরা নিজেদের মত করে দিনটিকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অনেকেই এই দিনকে কেন্দ্র করে যার যার মত করে সুযোগের ব্যবহার করে।

অথচ ভালবাসা দিবস কিংবা ১৪ই ফেব্রুয়ারী দিনটি শুরু হয়েছিল কিভাবে কেউ কি তার খবর রাখে? দিনটিতে মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসার এক আবেগময় অধ্যায় ছিলো। ভালবসা দিবস বাংলাদেশে কিংবা পাশ্চাত্যে যে আবেগে পালিত হয় সেভাবে এর শুরুটা ছিলো না। রোমানীয় নীতির আর ইতিহাস পড়লে আরো অনেক কিছুই জানা যায়। তবু বানিজ্যিক অনেক কিছুই জড়িয়ে আছে এই দিনকে ঘিরে। বাজার আর ব্যবসায়ী সবাই চেয়ে থাকে দিনটির আগমনের জন্য। কখন তারা বাড়তি কিছু বিক্রি করবে?

Save

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ভেরিফাই করুন--- *