আমাদের দৈনিক জীবনে অনেক কিছু নিয়েই হতাশ হয়ে পড়ি। কোন কিছু না পেলে কিংবা হারিয়ে গেলে অথবা কারো সাথে মনোমালিন্য হলেই আমরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। এটা অনেক পরিচিত একটা ব্যাপার। একটা সাময়িক ব্যাপার। কিন্তু অনেকেই দীর্ঘ মেয়াদী হতাশায় ভোগেন। হতাশা নিয়ে পুরো জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন এমন লোকের কথা জানতে পারা যায়। কিভাবে হতাশা দূর করবেন এই শিরোনাম নিয়ে আসার পেছনের কারন ছিলো আমাদের এক পাঠকের প্রশ্ন। তিনি প্রচুর হতাশায় ভোগেন যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেতে চান। সুতরাং আমরা আজ আলোচনা করছি কিভাবে হতাশা দূর করবেন। এ হতাশা সাময়িক কিংবা দীর্ঘস্থায়ী দুই-ই হতে পারে।

কিভাবে হতাশার সৃষ্টি হয়?

হতাশা নিয়ে কথা বলতে গেলে জানা উচিত কিভাবে হতাশার জন্ম হয়।

  • সাধারনত কোন কিছু হারিয়ে গেলে অথবা নষ্ট হয়ে গেলে মানুষের মনে হতাশা সৃষ্ট হয়।
  • কোন কিছু জরতে না পারার ব্যার্থতায় হতাশায় ভুগতে হতে পারে।
  • কোন মানুষের ভুল মন্তব্য অনেক মানুষকেই হতাশ করে দিতে পারে।
  • প্রেমের ব্যার্থতায় মানুষের হতাশা অনেক বেশি পরিমানে বাড়তে পারে।

হতাশা অনেক জানা কিংবা অজানা কারনে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যে বিষয়টা লক্ষণীয় তা হলো হতাশার সুত্রপাত হচ্ছে ব্যার্থতা অথবা নিজের প্রতি নিজের আস্থার অভাব।

তাহলে আমরা এর মধ্যেই জেনে গেছি হতাশায় কেন ভুগছি! যেসব কারনে হতাশায় ভুগছি সেসব বিষয়ের দিকে কড়া নজরে তাকালেই আমাদের হতাশা দূর হয়ে যাবার কথা। তবে তাই হোক চলুন আমরা কয়েকটি বিশেষ ব্যাবস্থায় নিজেদের মধ্যে হতাশা দূর কর ফেলি। তাছাড়া মনস্তাত্ত্বিকের  মতে হতাশা একটি রোগের নাম। একে ডিপ্রেশন বলে। সেটা অবশ্যই অনেক বেশি হতাশ ব্যাক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।  স্বাভাবিক মানুষদের হতাশা দূর করার জন্য আমরা কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর দেবো।

নিজের প্রতি আস্থা অর্জন: পৃথিবীর সকল মানুষের কথা ভাবার আগে নিজের কথা ভাবুন। আপনাকে কেউ বিশ্বাস করছে না? দরকার নেই, নিজেই নিজেকে বিশ্বাস করুন। যতবড় চ্যালেঞ্জই হোক আপনি প্রথম যেটা ভাববেন তা হলো – আমিই পারব। নিজেকে প্রয়োজনে আরো বেশি করে চিনুন। থমাস আলভা এডিসন তো ফিলামেন্ট একবারেই পুড়িয়ে বৈদ্যুতিক বাতি জালাতে পারেন নি। তাকে হাজার বারের চেষ্টা করতে হয়েছে। আপনি যে কাজে ব্যার্থ হয়েছেন তা কি এক হাজার বার চেষ্টা করেছিলেন? তাহলে ব্যার্থতার মুকুট মাথায় পরছেন কেন? অনেক বিজ্ঞানীই যে প্রজেক্ট হাতে নিয়ে চাকুরীতে ঢুকেছিলেন তা শেষ না করতে পারায় চাকুরী হারিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আবিষ্কার করে দেখিয়েছেন। থামেন নি এধরনের বাধাতেও। বাস্তবিক ব্যাপার হচ্ছে আপনি ঠিক সেই মানুষ যে মানুষটিকে আপনি নিজের জন্য ভাবেন। নিজেকে যা মনে করেন। কোন কিছু করে দেখানোর পর কেউ জানতে চায় না যে ঠিক কতবারের চেষ্টায় আপনি সেটা করেছেন। তাহলে এখানে করাটাই আসল।

আস্থা বজায় রাখুন: এমন কোন ঠুনকো ব্যাপার যদি নিজের প্রতি নিজের আস্থা হয়  তাহলে তো যে কোন সাধারন অন্য মানুষের কথায় নিজের প্রতি আস্থা ভরসা হারিয়ে যাবে। যদি তা ই হয় তবে জীবনে অনেক অনেকবার আপনি শুধু হতাশার ঝুড়ি নয় কষ্টের আর লজ্জার ঝুড়িও মাথায় নিতে হবে। অন্যমানুষ মানে অন্য একটা স্বত্ত্বা। তাকে চেনা যেমন সময় আর পরিস্থিতি সাপেক্ষ তেমনি তাকে নিয়ে ভাবার বিষয়ও গন্য। মুখ্য বিষয় হলো আপনি যা ভাবেন আপনি শুধু তা ই। হয়ত আপনি আপনার ভাবনায় অনেক কিছুকেই অবহেলা করছেন নয়ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।

ধৈর্যশীল হতে পারা: খুব কষ্টের কাজ হচ্ছে ধৈর্যশীল হওয়া। মুখে অনেকেই পারেন কিন্তু কাজে দেখিয়ে দেন অল্প কয়েকজন মানুষ। তারা সফল মানুষ। আপনাকে হতাশ করে দিতে সময় নেবে না যদি আপনি ধৈর্যশীল না হন।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন: আমি আগেই বলেছিলাম হতাশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করতে হবে। কেন, কিভাবে,  কোথায়, কে কিংবা কখন, কোন কারনে আপনি হতাশ হয়েছেন? যদি এর মোটামুটি তথ্য বের করা যায় তবেই কিন্তু আপনি সমাধানও করতে পারবেন। নতুবা আপনি আগের মতই হতাশ থাকবেন। যদি ব্যাবসায়ী হয়ে থাকেন তবে ব্যাবসার টুকিটাকি নিয়ে ভাবুন। কোথায় আপনার ফাঁক আছে, জানার বাকী আছে, কিংবা ঠকছেন। এভাবেই আপনার হতাশ অবস্থার সমাপ্তি টানা যেতে পারে।

এছাড়াও মানুষের মনে অনেক এক্সট্রিম ভয় থাকে। যেমন গনিত কে অনেক ছাত্রই ভয় পান। অনেকে ইংরেজিকে ভয় পান। অনেকেই আছেন শুধুমাত্র একজন শিক্ষক কে ভয় পান। ভাল ছাত্র হবার পেছনে এটাও একটা বাধা আর দুর্বলতা।

অনেকেই আবার কোন একজন বস বা অফিসের কর্তাকে ভয় পান, নিজেকে হতাশ মনে করেন। এর সবটাই উপরের চর্চায় কাজ নাও হতে পারে। কারন আপনার হয়ত দীর্ঘমেয়াদি হতাশা আর ভয় মাথার ভেতরে বাস করছে। তাই আপনাকে কোন একজন কনসালটেন্ট এর সাথে আলাপ করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ভেরিফাই করুন--- *