জল ও জংগলের কাব্য

জল ও জংগলের কাব্য জায়গাটা অনেক ভিতরে আর বেশি নিরিবিলি এলাকায়। যেখানে গ্রাম গিয়ে থেমে গেছে কোন এক জলরাশির কিনারায়। বর্ষায় কানায় কানায় জল থৈথৈ চারদিক আর গ্রীষ্ম শীতে সামান্য জল। তবে চারদিকে থাকে মাঠ আর মাঠ। এই জায়গায় প্রথম গিয়েছিলাম অনেক দিন আগে। তখন এতটা কৌতুহলী ছিলাম না। চারপাশ দেখে আমার দেখা আর অন্যান্য গ্রাম্য পরিবেশই মনে হয়েছিলো। কিন্তু পরে যখন ফিরে আসি ব্যতিক্রমী চেহারা তার ভেসে উঠল। আমি শুধু নই, আরো অনেকেই এর সবুজ প্রান্তর আর জলরাশির আবেগী আবেশে মুগ্ধ হয়ে গেল। আজ আমি জানাতে চাচ্ছি কিভাবে জল ও জংগলের কাব্য রিসোর্টে আমরা উপভোগ্য একটি দিন সম্পন্ন করলাম!গ্রামের রাস্তা জল ও জঙ্গলের কাব্য

জল ও জংগলের কাব্য আসলে পাইলট বাড়ি হিসাবে পরিচিত। ওই এলাকায় একে সবাই আর অন্য কোন নামে চিনে না। ঢাকা থেকে যেতে হলে টংগী অথবা কুড়িল ফ্লাইওভার হয়েও মিরের বাজার পার হয়ে নরসিংদির দিকে যেতে হয়। একটা ম্যাপ দিচ্ছি যাতে কেউ যদি যেতে চান সহজ হয়। জল ও জংগলের কাব্য ম্যাপ

যেতে যেতে সকাল ৯টা বেজে গিয়েছিলো। আমাদের টীম যাত্রা শুরু করেছিলো কল্যানপুর থেকে সকাল ৬টায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে একেকজন কে তুলতে তুলতে দেরি হয়ে গেল। তবু যখন পৌঁছুলাম তখন রিসোর্ট ম্যানেজার অভ্যর্থনা জানালেন। সাথে ডাবের পানি, লেবুর শরবত দিয়ে ওয়েলকাম ড্রিংক্স।

আমাদের ভাগে এবার পড়লো একটু ব্যতিক্রমী ঘরটি। এর আগের বার এত বাছ বিচার ছিলো না। যেখানে খুশি রেষ্ট নিয়েছিলাম। কিন্তু এবার অতিথী একটু বেশি ছিলো। বিশ্রাম ঘর

জল ও জংগলের কাব্য রিসোর্টে আমার এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ভ্রমন। আমার কাছে কিছুই নতুন ছিলো না। কিন্তু আসলেই তাই নয়। এবার গিয়ে আরো নতুনের চমক। আগের বার ছিলো শীতের মৌসুম। মাঠ ছিলো শুকনো। খেলার জন্য প্রশস্ত আর রিসোর্টের বাইরে চারদিকে ছিলো কিঞ্চিত পানি। ব্যাং, সাপের জন্য ভাল পরিবেশ। এবার গিয়ে পেয়েছি বর্ষা। বর্ষার রূপই আলাদা। টলমলানো ঢেউয়ে ডিংগি নৌকা ছেড়ে দিয়ে ছইয়ের দারুন সব কআমি যখন মাঝি!ন্ট্রোল! আমার বেলায় নৌকা চালানো কিছুটা পুরনো। তবে আনাড়ি এখনো। অভিজ্ঞতা যা ছিলো তার সবটাই অনিয়মিত মাঝির। নৌকা সবাই চালিয়েছিলেন। কেউ শখে আবার কেউ বিপাকে। কারন যখন বেশি পানিতে গিয়ে থামলাম তখন অনেকেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন।

পানিতে ফুটে ছিলো প্রচুর শাপলা। আর শাপলার পেকে যাওয়া ফুল। তারও স্বাদ অনেক দিন পরে পাওয়া গেল। এক সময় গ্রামে শাপলার ফুল খুঁজে বেড়ানো হতো। তখন ছিলো এক রকম ব্যাপার। আর আজ নৌকা চালিয়ে শাপলার ফুল খাওয়া কিছুটা ভিন্ন আনন্দের।

 

বৃষ্টি দু’বার তেড়ে এসেছিলো। ওদিকে খাবারের কোন আয়োজনই থেমে থাকে নি। মেন্যুতে নতুন কিছু যোগ করা হয়েছে। বাঙ্গালী খাবারের বিশাল মেন্যু। আসলেই আবেগপ্রবন আতিথীয়তা। টীমে একমাত্র আমিই দ্বিতীয়বার আর সবাই প্রথমবার হওয়ায় কিছু কিছু জায়গায় বুঝিয়ে দিতে হলো। বলা হলো যদি কিছু লাগে তা যেন অনুরোধ করে চাওয়া হয়। আদেশ নয়। তাই হলো। আসলেই এখানকার যারা কর্মী তারা আদেশ পচন্দ করেন কম। অনুরোধে ঢেঁকি গেলেন।

খারারের আয়োজন শুরু হয়ে গেল। আয়োজনে অনেক কিছুই থাকল। জংগলের খাবারসবাই খাবার গ্রহনে মগ্ন হয়ে পজল ও জংগলের খাবারড়লেন। তবে খাবারেরখাবারের তালিকা দিকে ঝুঁকে পড়ার কারনও ছিলো। প্রচুর ক্ষিদে পাবার মূলে ছিলো ফুটবল খেলা। তবু এত সব আয়োজন দেখে লোভ সামলানো দায় হয়ে গেল। শুরু হয়ে গেল খাবার গ্রহন।

পাইলট সাহেবের সাথেও দেখা হলো। পাইলট সাহেবের ব্যক্তিগত চলাফেরা খুবই সাধাসিধে। তিনি যেখানে সেখানে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়তে পচন্দ করেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি জানতে চাইলেন, এখানে আমরা কেন আসি?

এর উত্তর খুব সহজ নয়, তবু সামান্য বুঝিয়ে বলায় তিনি বিস্মিত! তার ব্যাখ্যায়, এখানে দেখার মত কিংবা সারপ্রাইজড হবার মত কিছুই নেই। অনেকেই নাকি বলেন, আমি বিস্মিত!

তিনি বলেন, বিস্মিত হবার কী আছে বলুন?

সাধারন কথাবার্তা বলা লোকটি এমন একটি রিসোর্ট করে জন মত যাচাই করছে। আমার দেখতে ভালই লাগল। তার কথা বার্তা অমায়িক। আবেগী টাইপ।

বিকেলে শুরু হয়ে গেল গান বাজনার আসর। কত গান গেয়ে গেলো সেখানের বয়াতিরা। আমাদের টীম তখন কিছু গ্রাম্য খেলায় উন্মত্য। তার মধ্যে একটা ছিলো খুব মারাত্মক খেলা। চোখ বন্ধ করে হাড়ি ভাঙ্গার মত যে খেলা। আমিও অংশ নেই। খেলার এক পর্যায়ে যা নিজের অবস্থান দেখে নিজেরই মন খারাপ! একি আমি এত দূরে? টার্গেট থেকে দূরে থাকার অন্ধত্বে আবারো প্রমান হলো অনুমানে কিছুই হবার নয়।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। সূর্য্য ঢুবতে ঢুবতে আবারো চলে গেলো সবাই নৌকা ভ্রমনে। বর্ষার মমতাময়ী চেহারা দেখার সুযোগ কে হাতছাড়া করে? সবাই তখন মেতে উঠলো নৌকার বক্ষে চড়ে পানির উপর দিয়ে ঘুড়ে বেড়াতে। চলতে চলতে আঁধার নেমে এলো। ধীরে ধীরে সব গুছিয়ে চলে এলাম তীরে। আমার গাড়িতে উঠে সোজা শহরের কোলাহলে।

জল ও জংগলের কাব্য! সত্যি লেখা হলো না। আমার কবিতা লেখার মুড ছিলো না। দু’তিন দিন থেকে গেলে নির্ঘাত কিছু কবিতা লেখা হয়ে যেত।

Save

Save

Save

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ভেরিফাই করুন--- *