গনিতে ভাল করা যায়

গনিত একটি গুরুত্বপূর্ন আর আবশ্যিক বিষয়। এসএসসি পর্যন্ত এই বিষয়ে পড়াশোনা করা বাধ্যতামূলক। এজন্য গনিত অনেকের জন্য একটা ভীতিও বটে। ছাত্রছাত্রীরা গনিতের খুঁটিনাটি না দেখে ভয় পান বেশি। পড়ালেখায় মনোযোগী হতে গিয়েও ভয় পেয়ে ফিরে আসেন। অনেক ক্ষেত্রেই গনিত ভয় এর জন্য দ্বায়ী। কিভাবে গনিতে ভাল করা যায় তা নিয়ে যতটা সম্ভব বিস্তারিত লিখার চেষ্টা করছি।

প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই গনিত ভীতি কাজ করে অনেকের মনে। এজন্যই ছাত্রছাত্রীরা প্রাইভেট টিউশনি নিয়ে থাকে ব্যস্ত। শিক্ষকদের বেলায় দেখা যায়, গনিত ভীতি বাড়াতে পারলেই ভালো। কেউ একে সহজ করে তুলে ধরার চেষ্টাও করেন না। গনিত আসলেই ভয় ভীতি পাবার মত কিছু নয়। বাংলা বই পড়ার মত অত সহজ না হলেও একে খুব দ্রুত আয়ত্বে আনা সম্ভব। বানিজ্যিক গনিত শিক্ষক, যারা একে আয় রোজগারের উপাদান বানিয়েছেন। তাদের কথা বাদ দিয়ে গনিতকে কিভাবে সহজে  ছাত্রছাত্রীদের কাছে আনা যায় সে দিকে নজর দেয়া যাক।

গনিত কী? গনিতে ভাল করা দরকার কেন?

হিসাব নিকাশ কিংবা তথ্য উপাত্ত নিয়ে যে বিষয় তাকেই গনিত বলা হয়। গনিতের কাজ হচ্ছে সব ধরনের হিসাব নিকাশ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা। জটিল থেকে জটিলতর হিসাব নিকাশ বের করা হয় উচ্চতর গনিতের মাধ্যমে। ছোটবেলা হয়ত পড়েছেন ১+১ = ২, এও পড়েছেন, ১x১=১, এগুলো গনিতের কিছু উদাহরন। কিন্তু ভেবে দেখুন তো এটা কি খুব বেশি কঠিন? পান্তা ভাতের চেয়েও সহজ। গনিতে ভাল করার বেলায় আপনার এমন সহজ টার্মই শিখতে হবে। গনিত আসলেই শেখার বিষয়।  অনেক সময় গনিত হচ্ছে আপনার ব্রেইন বা মেধা পরীক্ষার উপাদান।  বুদ্ধি পরীক্ষাও গনিতের মাধ্যমেই করা যায়। যেমন আমি যদি বলি, পাঁচ জন মানুষের দুইটি করে বাচ্ছা আছে। তাদের তিন জনের একটি করে কন্যা সন্তান আছে। তাহলে মোট কয়টা ছেলে সন্তান আছে? এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি কি ভয় পেয়ে গেলেন? তাহলে আপনার সত্যিই গনিত ভীতি আছে।

এটা খুবই সহজ একটি গনিত, যার উত্তর হচ্ছে =৫ গুন ২= ১০ বিয়োগ ৩ =৭ জন ছেলে সন্তান। এগুলো অবশ্যই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন। আজকাল এগুলো কিন্ডারগার্টেন ছাত্রছাত্রীরাও পারে। গনিত বই এখন কিছুটা আপডেটেড। এখন গনিতের মধ্যে চলে এসেছে সৃজনশীলতা। যেমন জে এস সি গনিত সৃজনশীল। এখানে আপনার বুদ্ধিকে তীক্ষ্ণ পরীক্ষার মুখোমুখী হতে হয়।

তাহলে কিভাবে গনিতে ভাল করা যায়?

গনিত সমাধান বই কিনে পড়তে বসে গেছেন? আসলে সেরকম কিছু করাটা উচিৎ নয়। আগে দেখুন তো গনিত বইয়ের মধ্যে কী কী দেখানো আছে। গনিতের একেকটি টার্মস একেকটি অধ্যায় মিলে ছাত্রছাত্রীদের অনেক ধারনা দেয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। যেমন ক্ষেত্রফল। এই ক্ষেত্রফল বা এরিয়া যখন বোঝানো হয় তখন অনেক সহজ করে না হলেও মোটামুটি কিভাবে একটি ক্ষেত্রফল হয় তার ধারনা দেয়া থাকে। ছাত্রছাত্রীরা সেগুলো খুব বেশি পড়েন বলে মনে হয় না। শুরু হয় হচ্ছে অনুশীলনী দিয়ে। অনুশীলনী মানে হচ্ছে গনিত প্রশ্ন। বর্ননা না পড়ে প্রশ্নে চলে গেলে কিভাবে গনিত শেখা যেতে  পারে? এমনিতেই গনিতের আলোচনার চেয়ে বেশি থাকে অনুশীলনী মানে গনিত প্রশ্ন। তারপরেও যদি সেই আলোচনা কেউ শুনত! গনিতে ভাল করা যায়। তার জন্য আপনাকে অবশ্যই গনিতের মূল অধ্যায় পড়তে হবে। উচ্চ মাধ্যমিক গণিত বই এখন সৃজনশীল পদ্ধতিতে গানিতিক হিসাব শেখায়।

 

বাজার থেকে অনেকেই অষ্টম শ্রেণীর গণিত সমাধান কিনে এনে নিজে নিজে চর্চা করেন। অষ্টম শ্রেনীর গনিত আসলেই বেশি গুরুত্বপূর্ন, সমাধান পড়ে শেখা উচিৎ নয়। এর জন্য পরবর্তী গনিতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার প্রয়োজন পড়ে। নবম শ্রেনীর প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গনিতে একটা ভাল অবস্থান থাকা। নিজেকে গনিতের জন্য রেডি না রাখলে এর ভীতি দিন দিন বেড়েই যায়।  অনেকেই আবার সপ্তম শ্রেণীর গণিত সমাধান বই থেকে শুরু করেন সমাধান খোঁঝা। এটা আরো বোকামী।

গনিতে পড়ার দরকার নেই এটা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অনুশীলনী আয়ত্ব এনেও খুব বেশি ভাল করা যায় না। তাত্বিক জ্ঞান থাকা খুবই জরুরী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ভেরিফাই করুন--- *