অচেনা মানুষকে চেনা

আপনারা সবাই হয়ত দুই মুসাফির গল্পটা পড়েছেন। আমিও পড়তে গিয়ে কেঁদে ফেলেছিলাম। দুই মুসাফির গল্পে দুজন অচেনা মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছিলো। সেটা ছিলো একটি কাল্পনিক গল্প। এক বাউল আর এক জোয়ার্দার মরে যাওয়ার পরে আবার নিজের অবস্থান খুঁজতে এলো নিজের লোকালয়ে। আমার আলোচনা সে দিকে নয়। আলোচনা হচ্ছে দু’জন অচেনা মানুষের চেনা মানুষে পরিনত হবার সূত্রপাত কিভাবে হতে পারে? কিভাবে অচেনা মানুষকে চেনা যায় তা বোঝানোর একটা চেষ্টা করছি।

এরকম চরিত্র আপনার আসে পাশে অনেক আছে হয়ত। যারা খুব কম সময়ে মানুষকে আপন করে নেয়। এই যেমন প্রথম দেখায় বুঝতেই দেন না যে তারা অপরিচিত। কিন্তু অনেকের জন্যই এ কাজটি খুবই দুরুহ। তারা আত্মকেন্দ্রিক হয়। আত্মকেন্দ্রিক মানুষেরা খুবই লাজুক হয়। তাই তারা অন্যকে নিজের মনে করতেও ভয় পায়। এছাড়াও বিভিন্ন কারনে তারা নিজের সাথে অন্য কাউকে খুব সহজে মিশতে দেয় না। এসব কারনেই অচেনা মানুষদের চেনা তাদের জন্য আর হয়ে ওঠে না। অথচ অনেকেই অচেনা মানুষকে আপন করে তাদের জীবন করেছেন সহজ। সাবলিল।

কিভাবে অচেনা মানুষকে চেনা মানুষে রুপ দিবেন?

সহজ নয়। তবু আমরা চেষ্টা করছি। কয়েকটি পর্যায়ে দেখছি কাজটা সহজ করা যায় কি না। আপনি একটু ধৈর্য্য ধরে পড়ুন। বিরক্ত হবেন না প্লিজ। আমরা নিচের কয়েকটি বিষয়ে নজর দিচ্ছি-

১। প্রথম পরিচয়ে আন্তরিকতার সামঞ্জস্যতাঃ ভুল করে অনেকেই প্রথম দেখায় একটু বেশি আন্তরিকতা দেখিয়ে ফেলেন। এটা করা বোকামী। বেশি আন্তরিক হওয়া যাবে না। আপনার মধ্যে যে টুকু আন্তরিক ভাব সব সময় থাকে ততটুকুই দেখান। অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল না। অচেনা মানুষকে চেনা খুব সহজ হয় না। তবু তাদের জন্য নিজের মধ্যে একটু আন্তরিকতা রাখা উচিৎ। এতে যদি সমান কিছু অচেনা মানুষটিও দেখান তবে সেই মানুষ চেনা মানুষেই পরিনত হবে একদিন।

২। সুন্দর করে কথা বলাঃ নিজের পরিচয় দেয়াটাই আসল কাজ নয়। নিজেকে তুলে ধরতে পারাটাও জরুরী। আপনি এ ব্যাপারে সব সময় নিজে যেমন তেমন করেই কথা বার্তা বলবেন। অতিরিক্ত স্মার্ট করে কথা বলতে গিয়ে নিজেকে হাস্যকর পরিস্থিতিতে ফেলা যাবে না।

৩। ভাল অভ্যাসের চর্চা করাঃ এটা সবাই জানেন যে অচেনা কেউ আপনার সাথে কথা বলার সময় আপনার অভ্যাসের দিকে নজর রাখেন। তিনি যদি আপনার কিছু খারাপ অভ্যাস টের পান তবে তার সাথে আপনার তেমন কোন দীর্ঘ সম্পর্ক হতে পারে না। অচেনা মানুষকে চেনার সময় জানার সময় নিজেকে ভাল অভ্যাসের মানুষ হিসেবে প্রদর্শন করা উচিৎ। নিজেকে ভাল অভ্যাসের মানুষ হিসেবে দেখতে গেলে ভাল অভ্যাসের চর্চা জরুরী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ভেরিফাই করুন--- *